অপরূপ সবুজের সমারোহ নিয়ে লাক্কাতুরা ও মালনীছড়া চা বাগান
- Nusrat Jahan Bithi
- May 10, 2021
- 2 min read
সবুজেঘেরা অনন্ত সৌন্দর্যের এই দেশ, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কোনও কমতি নেই। প্রতিটি জেলাতেই রয়েছে নানান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। যার কারণে বছরের বিভিন্ন সময় সেসব জায়গায় ভিড় জমান পর্যটকরা। দুটি পাতা আর একটি কুঁড়ির সিলেট জেলাটিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যেন অপরূপ ভাণ্ডার। পাহাড়-টিলা, ঝর্না, হাওর-বাওর, নদী, গাছ-গাছালি আর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে চা বাগান তো আছেই!উত্তর-পূর্ব দিকের জেলা সিলেট ঢাকা থেকে ২৭৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সিলেটে গিয়ে চা বাগান দেখবেন না এমনটা কি হয়! দেশের ৯০ ভাগ চায়ের চাহিদা পূরণ হয় সিলেটে উৎপাদিত চা থেকে। আর বিদেশে এই চা তো রপ্তানি হয়ই! বাংলাদেশের ১৬৩টি চা বাগানের মধ্যে ১৩৫টিই রয়েছে সিলেট জেলাতে। এখানে রয়েছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ এবং সর্বপ্রথম চা বাগান, মালনীছড়া। ১৮৪৯ সালে, ইংরেজ সাহেব হার্ডসন ১৫০০ একর জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উপমহাদেশের প্রথম এই চা বাগান, মালনীছড়া।মালনীছড়াতে ঢোকার কয়েকটি পথ রয়েছে। আর একই পথ ধরে যাওয়া যায় লাক্কাতুরা চা বাগানেও! লাক্কাতুরা আর মালনীছড়া চা বাগান একদম রাস্তার এপাশ-ওপাশ এ! তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাক্কাতুরা মলনীছড়াকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। মনোমুগ্ধকর সবুজে সমারোহ লাক্কাতুরা চা বাগান দেখতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে সিলেট জেলার চৌকিঢেঁকি উপজেলাতে। চৌকিঢেঁকি উপজেলার আবাসিক এলাকা পেরিয়ে গল্ফ ক্লাবের পথ ধরে ভিতর দিকে ঢুকলেই একদম বাগানের মাঝখানে চলে যাবেন। লাক্কাতুরা বাগানের এপাশ-ওপাশ ঘুরে গল্ফ ক্লাব এর সুন্দরম টিলার ওপরে গিয়েও বেশ মজা পাবেন।
আবার গল্ফ ক্লাব মাঠ পেরিয়ে আরও একটু সামনে এগিয়ে গেলেই সিলেটের বিভাগীয় স্টেডিয়াম পেয়ে যাবেন। মাঝখানে স্টেডিয়াম আর চারিপাশে চা বাগান! অসাধারণ সুন্দর লাগে দেখতে। একদম চোখ জুড়িয়ে যায়! এরকম সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে স্টেডিয়াম পৃথিবীতে হয়তো বা একটাই আছে। লাক্কাতুরা চা বাগান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম চা বাগানগুলোর মধ্যে একটি।
তাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও এখানে পর্যটকরা আসেন। আর সেই সাথে চা বাগানে নারী চা শ্রমিকদের চা তোলার দৃশ্যও মন কাড়ার মতোই! সরু সরু পথ ধরে সবুজের মাঝে মাথায় বাঁশের টুকরির ভর নিয়ে চা পাতা আর কুঁড়ি তুলতে থাকা নারী চা শ্রমিকদের দেখা যায়।অনেক পর্যটকরা আবার নিজেই এই অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য তাদের সাথে নেমে পরেন চা পাতা তোলার কাজে! গ্রীষ্মের সময় সেখানে গেলে একটু সকাল দিকে যাওয়া ভালো। কারণ কাঠ ফাটা রোদ মাথায় নিয়ে সেখানে খুব বেশি সময় ধরে থাকা যায় না। তাই দুপুরের দিকে যাওয়াটা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। এছাড়াও এই চা বাগানের পাশে রয়েছে একটি রাবার বাগান। শ্রমিকদের রাবার সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া দেখতে ভালোই লাগবে। টিলা থেকে উঠে গেলে বিশাল চা বাগান। আবার কোনও কোনও টিলার উপরের দিকে যাওয়ার পথটা বেশ সরু। সেই সরু পথ গিয়ে থামে চা বাংলোতে, যেখানে যেতে অনুমতি প্রয়োজন। অনুমতি নেয়া থাকলে বাংলোতে যেতে পারবেন। সিলেটের চা বাগানগুলো শহর থেকে কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াত সুবিধাও রয়েছে। তাই, চা বাগানগুলোতে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাওয়া-আসা করতে পারেন। তাই প্রায় পুরো বছর জুড়েই চা বাগানগুলোতে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে।





Comments